নিজস্ব প্রতিবেদক | ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশিতে আজ এক টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যখন মার্কিন কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেরিনেরা’ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ধরে ক্যারিবীয় সাগর থেকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অনুসরণের পর স্কটল্যান্ডের উত্তরের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে এই জাহাজটিকে আটক করা হয় যা মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। মার্কিন হোয়াইট হাউজ এবং ইউরোপীয় কমান্ডের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে এই অভিযানটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ রক্ষা বিষয়ক বিশেষ নীতিমালের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সম্পদ বা জলযানকে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
তবে এই ঘটনার গভীরতা আরও বেড়ে যায় যখন জানা যায় যে জাহাজটি জব্দের সময় ওই এলাকায় একটি রাশিয়ান সাবমেরিন এবং বেশ কয়েকটি রুশ সামরিক যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছিল যা এই ঘটনাকে একটি নিছক আইনি পদক্ষেপ থেকে রূপান্তর করে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কিনারে পৌঁছে দিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার অবৈধ তেল ব্যবসার ওপর অবরোধের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এর কড়া জবাব আসার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা কারণ জাহাজটি আগে ‘বেলা ১’ নামে পরিচিত থাকলেও আটকের ঠিক আগে এর নাম ও জাতীয়তা পরিবর্তন করা হয়েছিল।
এই অভিযানের ফলে উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এর কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না। ২০২৬ সালের শুরুতেই এই ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এক বিশাল আঘাত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



