ইসরায়েলের ৫ শহরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ১০

জেরুজালেম ও তেল আবিব — গতরাত থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি বড় শহর লক্ষ্য করে কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।

হামলার শিকার প্রধান শহরগুলো:

আজকের এই সমন্বিত হামলায় ইসরায়েলের যে শহরগুলো প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: ১. তেল আবিব (Tel Aviv): এখানে একটি বহুতল ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ২. বেইট শেমেশ (Beit Shemesh): আজকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি হয়েছে এখানে, যেখানে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ৩. জেরুজালেম (Jerusalem): শহরের উপকণ্ঠে মহাসড়কের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ৪. হাইফা (Haifa): বন্দর নগরী হাইফাতেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ৫. ব্নাই ব্রাক (Bnei Brak): এখানেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার অভিযান

ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ (MDA) জানিয়েছে, বেইট শেমেশ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়েন। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৮ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তেল আবিবেও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রেক্ষাপট: কেন এই হামলা?

গতকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আজ ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা শুরু করেছে।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

এই হামলার পর ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কয়েকশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।