রামাল্লাহ, ফিলিস্তিন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান থেকে ছোড়া শত শত ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় যখন পুরো অঞ্চল আতঙ্কে কাঁপছে, ঠিক সেই সময় অধিকৃত পশ্চিম তীরের হুওয়ারা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই হামলার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে হামলার অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজতে থাকলেও কয়েক ডজন বসতিস্থাপনকারী হুওয়ারা গ্রামে প্রবেশ করে। তারা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে এবং জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা সেনাবাহিনী হামলাকারীদের থামানোর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি।
আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে গ্রামবাসী
হামলার সময় আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় গ্রামবাসীরা আশ্রয়কেন্দ্র ও ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ পাথর নিক্ষেপ ও হামলায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একজন স্থানীয় ফিলিস্তিনি বাসিন্দা বলেন,
“আমরা উপরে ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে আতঙ্কিত ছিলাম, আর নিচে বসতিস্থাপনকারীরা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। সেনাবাহিনী তাদের বাধা দেয়নি, বরং তারা নির্ভয়ে হামলা চালিয়েছে।”
আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং একাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙচুরের ফলে অনেক পরিবারের বসবাসের পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, চলমান সংঘাতের সুযোগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ভয় দেখানোর ঘটনা নতুন নয়। তারা এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


