নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা: নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ পড়েছে এক নজিরবিহীন জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলোতেও হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে রোগীতে। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আর নতুন রোগী ভর্তির সুযোগ নেই, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বারান্দা কিংবা মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি এবং ভাইরাসের নতুন ধরন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গুর নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্লাটিলেট আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হচ্ছে দ্রুত, কেউ কেউ শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারাচ্ছেন।
শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে ডেঙ্গু এখন কার্যত মহামারিতে পরিণত হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা নেই, নেই পর্যাপ্ত রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থাও। ফলে গুরুতর রোগীদের অনেককে ঢাকায় পাঠানোর আগেই মৃত্যুর মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ অবস্থায় দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র স্যালাইন ও রক্ত সংকট। বাজারে ডেক্সট্রোজ ও নরমাল স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত ১০–১৫ টাকার স্যালাইন কোথাও কোথাও ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের রক্তের জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে, কারণ ডোনারের তুলনায় রক্তগ্রহীতার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও বাড়ছে ক্ষোভ। মশা নিধন কার্যক্রম কার্যকর না হওয়ায় নগরবাসী চরম হতাশা প্রকাশ করছেন। ড্রেন, ছাদ ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
ডেঙ্গুর এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ, হাসপাতাল সক্ষমতা বাড়ানো এবং কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি না নেওয়া হলে সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



