আইটি প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (PayPal) বাংলাদেশে তাদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার প্রাথমিক সম্মতি প্রদান করেছে। আজ সকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের অভাবনীয় সাফল্যের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে বিভিন্ন থার্ড-পার্টি মাধ্যম বা পেওনিয়ার ব্যবহার করেন, যা অনেক ক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। সরাসরি পেপ্যাল চালু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে টাকা বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। এতে করে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ যেমন বাড়বে, তেমনি তরুণ সমাজের মাঝে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, পেপ্যালের কারিগরি দল আগামী মাসেই ঢাকা সফরে আসছে। তারা স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সাথে ইন্টারফেস সংযোগ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। প্রাথমিকভাবে সোনালী ব্যাংকসহ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এই সেবা চালু হতে পারে। সরকার আশা করছে, আগামী মার্চের মধ্যেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোন থেকেই পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।
উদ্যোক্তাদের প্রতিক্রিয়া এই খবরে দেশের প্রযুক্তি খাতে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ফ্রিল্যান্সার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটি আমাদের জন্য স্বাধীনতার মতো। পেমেন্ট গেটওয়ের অভাবে আমরা অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট হারাতাম, এখন সেই বাধা দূর হলো।” আইটি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেপ্যাল আসার ফলে ই-কমার্স এবং গ্লোবাল ড্রপশিপিং ব্যবসায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তবে এই সেবা স্থায়ী করতে হলে সাইবার নিরাপত্তা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। পেপ্যাল যেন কেবল অর্থ আনার মাধ্যম না হয়ে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও সহজ হয়, সে বিষয়েও কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই খাতের আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।



