র্থনীতি ডেস্ক | জয় বাংলা নিউজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে কমলেও বাংলাদেশের বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মূলত ডলারের বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতি এবং এলসি (LC) খোলার জটিলতায় বিপাকে পড়েছেন দেশের আমদানিকারকরা, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ববাজারের চিত্র: আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক দিনে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ওপেকের (OPEC) সরবরাহ বৃদ্ধি এবং চীনের ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় এই দরপতন হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে পরিবহন ব্যয় বা জ্বালানি খরচ কমানোর ক্ষেত্রে কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে পারছে না সরকার।
ডলার সংকট ও এলসি জটিলতা: অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন ডলারের সংকট। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো এখনো প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে কাঁচামাল আমদানির জন্য লেটার অফ ক্রেডিট বা এলসি খুলতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে কারণ তারা সময়মতো প্রয়োজনীয় মেশিনারি বা কাঁচামাল আনতে পারছে না।
রপ্তানি আয়ের চ্যালেঞ্জ: দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে মুদ্রাস্ফীতির কারণে পোশাকের চাহিদা কিছুটা স্তিমিত, অন্যদিকে দেশের ভেতরে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
বাজারের ওপর প্রভাব: আমদানিকৃত পণ্যের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে এখনো উচ্চমূল্য বিরাজ করছে।



