নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
এতদিন নিপাহ ভাইরাসকে শুধুমাত্র শীতকালীন রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এখন তা জনস্বাস্থ্যের জন্য সারা বছরের এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫টি জেলায় এই ঘাতক ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রথমবারের মতো ‘অ-মৌসুমি’ বা শীতকাল ছাড়াও বছরের অন্য সময়ে নিপাহ সংক্রমণের প্রমাণ পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংক্রমণের ধরন ও বর্তমান চিত্র সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এটি দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি এবং এটি দেশের নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি হলেও এখন মধ্যাঞ্চলেও এর বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অ-মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাদুড়ের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে এই ভাইরাস এখন শীতের নির্দিষ্ট সময় গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময়েও বিভিন্ন ফলমূলের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে নিপাহ ভাইরাস এখন আর কোনো নির্দিষ্ট ঋতুর রোগ নয়, বরং বছরজুড়ে এক স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হওয়ার পথে।
চিকিৎসকদের সতর্কতা ও পরামর্শ নিপাহ ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি—প্রায় ৭০ শতাংশ। তাই প্রতিরোধই একমাত্র পথ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
- কাঁচা খেজুরের রস: কোনো অবস্থাতেই কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না। রস ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করলে ঝুঁকি থাকে না।
- অর্ধেক খাওয়া ফল: পাখি বা বাদুড়ে খাওয়া কোনো ফল (যেমন: পেয়ারা, বড়ই বা আম) খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ব্যক্তিগত সচেতনতা: আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
সরকার ইতোমধ্যে আক্রান্ত জেলাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা না বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



