আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জয় বাংলা নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার বহুল আলোচিত বৈঠকের আগে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেন যদি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাজি না হয়, তবে রাশিয়া সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেই তার সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করবে।
পুতিনের কঠোর বার্তা: শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ও তাস (TASS) পুতিনের এই সতর্কবার্তা প্রচার করে। পুতিন বলেন, কিয়েভ শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুদ্ধ শেষ করতে কোনো তাড়াহুড়ো দেখাচ্ছে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ইউক্রেন শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান করতে না চায়, তবে রাশিয়া তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ সমস্ত লক্ষ্য শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করবে।”
রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা: ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করেছেন এবং জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভের কাছ থেকে যুদ্ধের সর্বশেষ রিপোর্ট নিয়েছেন। রুশ কমান্ডের দাবি, তারা সম্প্রতি ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের মিরনোহরাদ, রোদিনিস্কে এবং আর্তেমিতকা শহরসহ জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা দখল করেছে।
জেলেনস্কির অবস্থান: অন্যদিকে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলার জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া আসলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, পক্ষান্তরে কিয়েভ চায় স্থায়ী শান্তি। ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির আসন্ন বৈঠকে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পেশ করার কথা রয়েছে, যা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
প্রেক্ষাপট: ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির এই বৈঠক যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তার ঠিক আগেই পুতিনের এই সরাসরি হুমকি পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইউক্রেনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।



