এআই-এর নতুন বিপ্লব: মানুষের মস্তিষ্ক পড়তে সক্ষম ‘মাইন্ড-রিডিং’ হেলমেট আনল বিজ্ঞানীরা!

প্রযুক্তি ডেস্ক | জয় বাংলা নিউজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর জয়জয়কার এখন সবখানে। কিন্তু এবার প্রযুক্তি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যা আগে কেবল সায়েন্স ফিকশন সিনেমাতেই দেখা যেত। সম্প্রতি একদল গবেষক এমন একটি বিশেষ হেলমেট তৈরি করেছেন যা মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গ (Brain Waves) বিশ্লেষণ করে সেটিকে সরাসরি টেক্সট বা লেখায় রূপান্তর করতে পারে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনি (UTS)-এর গবেষকদের তৈরি এই সিস্টেমে কোনো চিপ বা সেন্সর মস্তিষ্কের ভেতরে ঢোকানোর প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীকে কেবল একটি ইইজি (EEG) ক্যাপ বা হেলমেট পরতে হয়। এরপর তিনি যখন কোনো কিছু চিন্তা করেন, তখন মস্তিষ্ক থেকে নির্গত ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালগুলোকে AI বিশ্লেষণ করে এবং চোখের পলকেই সেটি কম্পিউটারের পর্দায় বাক্য আকারে ভেসে ওঠে।

কাদের জন্য এটি আশার আলো? এই প্রযুক্তির সবথেকে বড় সুবিধা পাবেন তারা, যারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralyzed) বা কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন। এই ‘ব্রেন-টু-টেক্সট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা এখন শুধু চিন্তা করেই অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়াও ভবিষ্যতে এটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের ধরন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: সুবিধার পাশাপাশি প্রযুক্তিবোদ্ধারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মানুষের চিন্তাধারা যদি প্রযুক্তি পড়তে পারে, তবে সেটির অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন, এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং নৈতিক দিকগুলো বিবেচনা করেই এটি বাজারজাত করা হবে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা: খুব শীঘ্রই হয়তো আমাদের আর কিবোর্ড বা ভয়েস টাইপিংয়ের প্রয়োজন হবে না। আমরা যা ভাবব, স্মার্টফোন ঠিক সেটিই টাইপ করে দেবে। প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর যাত্রা আমাদের এক নতুন পৃথিবীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।