নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সারা দেশেই এখন জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, দেশের অন্তত দশটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকছে চারপাশ, যার ফলে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় সূর্য দেখা না যাওয়ায় দিনের বেলাতেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
শহুরে ও গ্রামীণ জীবনে প্রভাব রাজধানী ঢাকাতেও গত দুই দিনে শীতের তীব্রতা অনেকটা বেড়েছে। ভোরে কুয়াশার কারণে বাস ও ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব ঘটছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। অন্যদিকে, গ্রামীণ জনপদে কৃষিকাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা; তীব্র ঠান্ডার কারণে শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা তীব্র শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতকালীন রোগবালাই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং কোল্ড ডায়রিয়ার প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে সবাইকে গরম কাপড় পরার পাশাপাশি কুসুম গরম পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের ভোরে বা রাতে বাইরে বের না করাই ভালো।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে আকাশ পরিষ্কার হলে রোদের দেখা মিললে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



