নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়কাল এবং রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনের প্রধানগণ এই বিস্তারিত পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মূল লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, বরং একটি টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সংস্কারের প্রধান দিকসমূহ ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী, নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এবার থেকে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—এমন একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে, সংসদীয় আসনে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে আনা হয়েছে, যাতে সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া সরকারের এই পরিকল্পনা প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশের বড় দলগুলো এই সংস্কার উদ্যোগকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানালেও, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দ্রুত ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা মনে করছে, সংস্কার কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত এবং নির্বাচিত সরকারের হাতেই চূড়ান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্যদিকে, নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের এই ‘সিস্টেম পরিবর্তনের’ উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলছে, তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন দিলে আবারও পুরনো অপরাজনীতির আবির্ভাব ঘটতে পারে।
মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নতুন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, স্বার্থান্বেষী মহল এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় আছে ভোটাররা। বিশেষ করে তরুণ সমাজ চাচ্ছে এমন একটি নেতৃত্ব যারা স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সংস্কার কাজগুলো একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছানো মাত্রই নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে।



