অর্থনীতি প্রতিবেদক | ঢাকা
বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত তার সক্ষমতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইউরোপের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কেনাকাটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের পোশাক বা ‘ভ্যালু অ্যাডেড’ পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে।
নতুন বাজার অনুসন্ধান ও সাফল্য এতদিন কেবল ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, বর্তমানে বিজিএমইএ (BGMEA) এবং সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় নতুন নতুন বাজার উন্মোচিত হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন বাজারগুলো থেকে অর্জিত আয় গত ছয় মাসে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
সবুজ কারখানার বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের এই অর্জনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি পরিবেশবান্ধব কারখানার মধ্যে অর্ধেকের বেশি এখন বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন কম্বোডিয়া বা ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের কারখানাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন কারণ এখানে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে টেকসই উপায়ে উৎপাদন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তবে এই সফলতার পথ খুব একটা মসৃণ নয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান দাম এবং কাঁচামাল আমদানিতে ডলারের সংকট এখনো উৎপাদনকারীদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এলডিসি (LDC) উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে হলে এখন থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে জিএসপি প্লাস (GSP+) সুবিধা নিয়ে দরকষাকষি শুরু করতে হবে।
সরকার ইতোমধ্যে রপ্তানি ভর্তুকি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে। যদি জ্বালানি সংকট সমাধান করা যায়, তবে ২০২৬ সাল শেষে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।



