তারেক রহমানের নেতৃত্বের সামনে প্রধান ৫টি চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বের সামনে প্রধান ৫টি চ্যালেঞ্জ

১. দীর্ঘ প্রবাস জীবনের প্রভাব ও মাঠের বাস্তবতা

টানা ১৭ বছর লন্ডনে কাটানোর ফলে দেশের মাঠপর্যায়ের রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের সাথে তাঁর সরাসরি সংযোগে কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন জেনারেশন’ বা জেন-জি (Gen-Z) ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা তাঁর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বাইরে সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে আবেগীয় সংযোগ স্থাপন করা এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

২. অতীত ইমেজের বোঝা ও সংস্কার

তারেক রহমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সাথে অতীতে ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক নানা বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ জড়িয়ে ছিল। যদিও আদালত তাঁকে অনেক মামলায় খালাস দিয়েছে, তবুও সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একটি আস্থার সংকট রয়ে গেছে। তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে—অতীতের সেই ভাবমূর্তি পুরোপুরি মুছে ফেলে নিজেকে একজন ‘পরিপক্ক ও জনবান্ধব’ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রমাণ করা।

৩. দলের ভেতরকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জ্যেষ্ঠদের সাথে সমন্বয়

বিএনপি এখন তিনটি প্রজন্মের সমন্বয়ে গঠিত: জিয়ার আমলের প্রবীণ নেতা, খালেদার আমলের বিশ্বস্ত কর্মী এবং বর্তমানের ডিজিটাল অ্যাক্টিভিস্ট। প্রবীণ নেতাদের অনেকে তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন। এই জ্যেষ্ঠ নেতাদের সম্মান বজায় রেখে তরুণদের সাথে সমন্বয় করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ ‘চেইন-অফ-কমান্ড’ ঠিক রাখা তাঁর নেতৃত্বের বড় অগ্নিপরীক্ষা।

৪. জামায়াতে ইসলামী ও ধর্মীয় রাজনীতির সমীকরণ

বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে সাম্প্রতিক দূরত্ব এবং আবার জোট গঠনের প্রশ্নে তারেক রহমানকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। একদিকে কট্টর সমর্থকদের ধরে রাখা, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতের কাছে নিজেকে একজন ‘উদার ও অসাম্প্রদায়িক’ নেতা হিসেবে তুলে ধরার এই দুই নৌকায় পা রাখা তাঁর জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৫. প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে তিনি দেশের মাটিতে থাকলেও সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় এখনো তাঁর বিরোধী আদর্শের কর্মকর্তারা থাকতে পারেন। প্রশাসনকে নিজের অনুকূলে আনা এবং বিচার বিভাগে নিজের নির্দোষিতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণের আইনি লড়াই তাঁর জন্য মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।