আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্রাসেলস ও মস্কো: ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই বাল্টিক সাগর অঞ্চলে ন্যাটো (NATO) এবং রাশিয়ার মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে বাল্টিক সাগরের তলদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি কেবল সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
- সামরিক উত্তেজনা ও ন্যাটোর ‘ডিফেন্ডার ২০২৬’ মহড়া: ন্যাটো জোট তাদের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সামরিক মহড়া ‘ডিফেন্ডার ২০২৬’ শুরু করেছে। পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়া সীমান্তে প্রায় ৫০,০০০ সৈন্য এবং অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার মোতায়েন করা হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হুমকি। এর জবাবে ক্রেমলিন তাদের ‘কালিনিনগ্রাদ’ এনক্লেভে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ইসকান্দার’ মিসাইল মোতায়েন করেছে।
- জ্বালানি সরবরাহ ও নর্ড স্ট্রিম-৩ এর ভবিষ্যৎ: নতুন এই উত্তজনা ইউরোপের জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০২৫ সালে প্রস্তাবিত ‘নর্ড স্ট্রিম-৩’ পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জার্মানি ও ফ্রান্সে জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এশিয়ার বাজারেও এলএনজি (LNG) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- সাইবার যুদ্ধ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই শুধু কামানে নয়, বরং সাইবার স্পেসেও। বাল্টিক সাগরের নিচে ডাটা ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে উত্তর ইউরোপের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থবির হয়ে পড়ে। ন্যাটো গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এটি রাশিয়ার ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’-এর অংশ, যদিও মস্কো এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
- বৈশ্বিক প্রভাব: এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রিচার্ড হেইন্স মনে করেন, “২০২৬ সাল হবে বৈশ্বিক মেরুকরণের বছর। যদি বাল্টিক অঞ্চলে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন না হয়, তবে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি ফ্ল্যাশপয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে।



