চাঁদাবাজি দমনে সালাহউদ্দিনের বক্তব্য: জনগণের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ

ঢাকা — দেশে চলমান চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যেখানে সাধারণ মানুষ আশা করেছিল দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কঠোর ব্যবস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশনার কথা আসবে, সেখানে তিনি সাংবাদিকদের এবং জনগণকে চাঁদাবাজ ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যখন চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন, তখন সালাহউদ্দিন আহমেদ সরাসরি দায় না নিয়ে পাল্টা পরামর্শ দেন যে, “আপনারা (সাংবাদিকরা) তাদের ধরিয়ে দিন।”

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া:

  • প্রশাসনিক ব্যর্থতা: অনেকের মতে, অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনের কাজ। একজন শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে “আপনারা ধরিয়ে দিন” বলাটা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।
  • নিরাপত্তাহীনতা: সাধারণ মানুষ মনে করছে, চিহ্নিত রাজনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে গেলে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
  • দলের ভাবমূর্তি: বিএনপি যখন একটি সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন এ ধরণের অস্পষ্ট বক্তব্য দলের ভেতরে থাকা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সালাহউদ্দিন আহমেদ হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে দল অপরাধীদের আশ্রয় দিচ্ছে না, কিন্তু তার প্রকাশের ভঙ্গিটি সাধারণ মানুষের কাছে “দায় এড়ানো” হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—যাদের হাতে লাঠি বা ক্ষমতা, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ নিরস্ত্র মানুষ কীভাবে রুখে দাঁড়াবে যদি দল বা রাষ্ট্র কঠোর সুরক্ষা না দেয়?